ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশন
মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার মেহেরপুর। শিক্ষা-সংস্কৃতি, ক্রীড়া, শিল্প ও বাণিজ্যে মেহেরপুর এখনও একটি পশ্চাদপদ জেলা। শিক্ষার বিস্তার, মানোন্নয়ন, দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণসহ জাতীয় সংস্কৃতির চর্চা, ক্রীড়া ও গণ সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নির্ভেজাল, নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। স্বাধীনতার পর আশির দশকে মেহেরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও মেহেরপুর কলেজ এর সহপাঠিদের সমন্বয়ে বন্ধুত্ব ও স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকে মেহেরপুর জেলার শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশ সাধনে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবেই একটি স্বেচ্ছাসেবী, অলাভজনক ও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ।
২০০৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর এক সুমহান লক্ষ্য নিয়ে ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদক যথাক্রমে জনাব এ.এল.এম জিয়াউল হক এবং মো: হাসানুজ্জামান মালেক। ২৭ মার্চ, ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হয় । প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহি কমিটি গঠিত হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াক্ষেত্রের মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।
২০০৮ সালের শুরুতেই মেহেরপুর কোর্ট রোডস্থ একটি ভাড়া বাড়িতে ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল কার্যক্রম শুরু হয়। ঐ বছরেই শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিয়োগিতা, আন্ত: ইউনিয়ন ফুটবল টুর্ণামেন্ট, কৃতী ছাত্র ও শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান, দরিদ্র-মেধাবী ছাত্রদের আর্থিক সহযোগিতা দান ইত্যাদি কর্মসূচী সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। ফ্রেন্ডস্ ফাউন্ডেশন ২৮/০২/২০০৯ খ্রি: তারিখে গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়। ২০০৯ সালের ১৩ নভেম্বর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়। এই শিবিরে ২৫০০ চক্ষুরোগীর চিকিৎসা সহ ১০৫ জন রোগীর বিনামূল্যে লেন্স সংযোজনসহ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১২ মার্চ ২০১০ তারিখে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চর্ম ও এলার্জি ক্যাম্প করা হয়। এলাকার গরীব অসহায় দু:স্থ প্রায় ৩০০০ জনকে ঔষধসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়। ০৯/০৯/২০১০ তারিখে মেহেরপুর জেলার ২টি এতিমখানার ২০০ শিশুকে নতুন পোশাক দান ও তাদের নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। ০৩/০২/১১ তারিখে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এলাকার গরীব,দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ৫৫০ টি কম্বল ও জ্যাকেট বিতরণ করা হয়। ০৪/০২/১১ তারিখে ফাউন্ডেশনের ৩য় সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৬মে ২০১১ তারিখে জেলা শিল্পকলা একাডেমী হলে স্মরণিকা প্রকাশ ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৩ ডিসেম্বর,২০১১ তারিখে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নজরুল স্কুলে ২য় বারের মত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা। প্রায় ২০০০ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং ১০৮ জনকে ফরিদপুরের টেকেরহাট লায়ন হাসপাতালে নিয়ে লেন্স সংযোজন করা হয়। ৩০/১২/১১ তারিখে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এলাকার গরীব,দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ৭০০ টি কম্বল ও জ্যাকেট বিতরণ করা হয়। ০৫/০২/১২ তারিখে পাকশি রিসোর্টে ফাউন্ডেশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ মার্চ ফাউন্ডেশনের কার্যালয় একই এলাকায় মিন্টু প্লাজায় স্থানান্তর করা হয়।